ত্যাগ সংযম ও শিক্ষা, মুসলিম জাহানের জন্য খুশির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে বছর ঘুরে আবার ফিরে এলো পবিত্র ঈদুল আজহা। কুরবানির শিক্ষা আমাদের ত্যাগের শিক্ষা দেয়। দিনটি সব ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মিলিত হওয়ার দিন। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মেঘনাবাসীসহ দেশ-বিদেশের সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহা’র শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, মেঘনা উপজেলা শাখা’র রাধানগর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক, মোঃ রাসেল মোল্লা।
মোঃ রাসেল মোল্লা বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা ত্যাগ সংযম ও নৈতিকতার শিক্ষা নিয়ে আসে। আমাদের জন্য আল্লাহ কি ভাল এবং কি মন্দ তা বিবেচনা করার জন্য এই কুরবানি। এর মধ্যে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন আমাদের বার্তা দিয়েছেন যে, আমরা যেন সর্বদা হিংসা নিন্দা পরিহার করে জীবনের মূল লক্ষ্যকে বাস্তব করতে পারি।
তিনি আরও বলেনঃ- পবিত্র ঈদুল আযহা হলো কুরবানির এক শিক্ষা। আমরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কত প্রাণ বিলিয়ে দেই। হোক তা পশুর প্রাণ। ধনী গরীব বৈষম্য দূর করে আমাদের ঈদুল আযহা থেকে শিক্ষা নিতে হবে যে মানুষ মানুষের জন্য। জীবন জীবনের জন্য।
আসুন আমরা প্রতিবেশীদের প্রতি সদয় হই এবং মানুষের কল্যাণে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখি। কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার সহ সর্বস্তরের সম্মানিত মুসলমান ভাই ও বোনদের এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ঈদুল আযহা শুভেচ্ছা ‘ঈদ মোবারক’।
পবিত্র ঈদুল আজহায় মহান আল্লাহর উদ্দেশে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করা মুসলমানদের প্রাচীন ঐতিহ্য। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের প্রতি প্রিয় বান্দা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর সীমাহীন ভক্তি, সর্বোচ্চ ত্যাগের সদিচ্ছা এবং গভীরতম আত্মসমর্পণে পরম করুণাময় সন্তুষ্ট হন এবং তিনি ইব্রাহিমকে (আ.) আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ পশু কোরবানি করতে নির্দেশ দান করেন। এর পর থেকে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের প্রতীক হিসেবে পশু কোরবানি দিয়ে আসছেন। প্রতি বছর মুসলমানদের বৃহত্তম ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র হজের পরই কোরবানি দেওয়া হয়। পাঁচ দিন ধরে চলে হজের আনুষ্ঠানিকতা। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ-লাখ মুসলমান আরাফাত ময়দানে সমবেত হন। এটি মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্তও বটে।
পবিত্র ঈদুল আজহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা। পশু কোরবানি করা হয় প্রতীকী অর্থে। আসলে কোরবানি দিতে হয় মানুষের সব রিপুকে—কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা। সৎ পথে উপার্জিত অর্থের বিনিময়ে কেনা পশু কোরবানির মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয়।
পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, আল্লাহর কাছে কোরবানি করা পশুর রক্ত বা মাংস কিছুই পৌঁছায় না, শুধু পৌঁছায় বান্দার তাকওয়া। কাজেই কোরবানির অর্থঃ- ত্যাগ বা উৎসর্গ। আল্লাহতায়ালা প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গ করতে বলেছেন। আমরা তার আদেশ পালন করব অন্তরের তাগিদে, মানুষকে দেখানোর জন্য নয়।
এ আনন্দময় উৎসবে আমাদের অগণিত পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, ফলোয়ার, বিপণনকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীর প্রতি রইল ঈদের শুভেচ্ছা। পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ অমলিন হোক।
শুভেচ্ছান্তেঃ-
মোঃ রাসেল মোল্লা
যুগ্ম-আহ্বায়ক,
রাধানগর ইউনিয়ন যুবদল, মেঘনা উপজেলা শাখা, কুমিল্লা উঃ জেলা।